আন্তজার্তিক

সেনা অভ্যুত্থানে থমথমে মিয়ানমার; রোহিঙ্গা নিধনের শঙ্কা

মিয়ানমারে জেনারেল মিং অং লাইং সরকার, ফের রাখাইনে নিপীড়ন শুরু করতে পারে। একইসঙ্গে বাধাগ্রস্ত হতে পারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনও। এক বিবৃতিতে এ শঙ্কা জানিয়েছে, জাতিসংঘ। আর দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের হুমকি দিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় যেহেতু চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র, তাই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

সেনাবাহিনী ক্ষমতাগ্রহনের একদিনের মাথায় পাল্টে গেছে মিয়ানমারের চিরচেনা রুপ। সুচির পক্ষে নেই কোন বিক্ষোভ কিংবা সমাবেশ। উল্টো সেনাবাহিনীর সমর্থনে চলছে আনন্দ মিছিল। তবে এখনো থমথমে নেপিদো, ইয়াঙ্গুন সহ বড় বড় শহরগুলো। বেশিরভাগ জায়গায় এখনো বন্ধ মোবাইল আর ইন্টারনেট সেবা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফের সেনাক্ষমতায় দেশটিতে কমে যাবে বিদেশী বিনিয়োগ। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে দেশটির অর্থনীতি। আর জাতিসংঘের শঙ্কা, সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসায় বিলম্বিত হতে পারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন।

জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেন, এমন পরিস্থিতিতে মিয়ানমারে থাকা ৬ লাখ রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নিয়েই বেশি চিন্তিত আমরা। সেনা অভ্যুণ্থানের পর বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের  মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো এখন আরও বেশি চ্যালেন্জিং হয়ে দাড়াবে।

সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিক্ষোভ হয়েছে জাপান, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডে।

এর আগে গতকাল মিয়ানমার ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চিকে আটক করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এছাড়াও দেশের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছে। সোমবার সকালে (০১ ফেব্রুয়ারি) তাদের আটক করা হয় বলে ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন।

গত বছরের ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি নিরঙ্কুশ জয় পায়। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ৩২২টি আসনই যথেষ্ট, সেখানে এনএলডি পায় ৩৪৬টি আসন। সোমবার নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে। তারপর থেকেই দেশটিতে আবার সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট ও দলটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের আটকের পর এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

এমন আরো তথ্য পেতে চোখ রাখুন: https://www.facebook.com/rajtvbd

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button